কোভিডের আঘাত সামাল দিতে না দিতেই রাশিয়া ও ইউক্রেন সংঘাতের জেরে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি খাতে দেখা দেয় সংকট। ফলে অন্যান্য জ্বালানি আমদানিকারক দেশের মতোই ২০২২ সালে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি। বিশ্ববাজারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে দফায় দফায় বাড়ানো হয় বিদ্যুৎ, তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলপিজি) দাম। তবে এক্ষেত্রে আশার আলো দেখায় কাতার থেকে এলএনজি আমদানির দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি।
এছাড়া এ বছরই অনুমোদিত হয় সরকারের ‘সমন্বিত জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মাস্টারপ্ল্যান (আইইপিএমপি) ২০২৩’, যা পথ দেখাবে দেশের বিদ্যুৎ খাতকেও।
কাতার থেকে এলএনজি আমদানির চুক্তি
জ্বালানি সংকট বিশেষ করে গ্যাস সংকট কাটাতে বছরের শুরু থেকেই নানাভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছে সরকার। এর অংশ হিসেবে তরলিকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানিতে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ গ্যাস রফতানিকারক দেশ কাতারের সঙ্গে ২০২৩ সালে একটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষর করে বাংলাদেশ।
গত জুনে হওয়া এ চুক্তি অনুযায়ী আগামী ১৫ বছর দেশটি থেকে এলএনজি আমদানি করা যাবে। চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ প্রতিবছর কাতার থেকে ১৮ লাখ মেট্রিক টন এলএনজি আমদানি করবে। অতিরিক্ত এ এলএনজি দেশে আসা শুরু হবে আগামী ২০২৬ সাল থেকে।
দোহায় কাতার এনার্জির সদরদফতরে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ কর্পোরেশন (পেট্রোবাংলা) এবং কাতারের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কাতার এনার্জির এলএনজি ট্রেডিং শাখা দীর্ঘমেয়াদি এ চুক্তি সই করে।
২০২৩ সালে দেশে অপরিবর্তিত ছিল জ্বালানি তেলের দাম
২০২৩ সাল জুড়েই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম নিয়মিত ওঠানামা করলেও বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম ছিল অপরিবর্তিত। অর্থাৎ ২০২৩ সালে দেশে ডিজেল, পেট্রোল কিংবা অকটেনের দামের বৃদ্ধি বা হ্রাস ঘটেনি। সর্বশেষ গত বছরের ৩০ আগস্ট জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা হয়েছিলো। এর পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে, আবার বেড়েছেও। পাশাপাশি ডলারের বিপরীতে হ্রাস পেয়েছে টাকার মান। তবে এর প্রভাব পড়েনি জ্বালানি তেলের দামে। বর্তমানে দেশে লিটারে ডিজেল ১০৯ টাকা, কেরোসিন ১০৯ টাকা, অকটেন ১৩০ টাকা ও পেট্রোল ১২৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে।
অবশ্য বাংলাদেশকে দেয়া আইএমএফ-এর ঋণের শর্ত ছিলো আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি চালু করা। এর সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সরকারের পরিকল্পনা ছিলো চলতি বছরের ১ সেপ্টেম্বর থেকেই স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি চালু করা।
কিন্তু জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও আন্তর্জাতিক বাজারের অনিশ্চিত পরিস্থিতি বিবেচনায় সেটি করা আর সম্ভব হয়নি। তবে আইএমএফ-এর শর্ত পূরণে আগামী ২০২৪ সালের মার্চ মাস থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি কার্যকর করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
২০২৩ সালে তিন দফায় বাড়ানো হয় বিদ্যুতের দাম
২০২৩ সালে ১২ জানুয়ারি, ৩১ জানুয়ারি ও ২৮ ফেব্রুয়ারি মোট তিন দফায় সব মিলিয়ে প্রায় ১৫ শতাংশ বাড়ানো হয় গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম। তার আগে সর্বশেষ ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সব ধরনের বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছিলো সরকার। বর্তমানে গ্রাহক পর্যায় প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম নির্ধারিত হয়েছে ৪ টাকা ৩৫ পয়সা। অর্থাৎ ৫০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করলে গ্রাহকের অন্যান্য খরচ বাদে বিদ্যুতের বিল আসবে ২১৭ টাকা। আর ৫০ ইউনিটের বেশি ব্যবহার করলে সেই ট্যারিফ মোতাবেক বিল আসবে।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন