যুদ্ধে প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার সেনা হারিয়েছে ইউক্রেন


রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে ইউক্রেনের ৫ লাখ সেনাসদস্য মারা গেছে। প্রতি মাসে কিয়েভ হারিয়েছে প্রায় ৩০ হাজার সেনাসদস্য। এমনটাই দাবি করেছেন দেশটির সরকারের সাবেক শীর্ষ আইনজীবী ইউরি লুতশেঙ্কো।

 
উক্রেনের সেনাসদস্য। ছবি: সংগৃহীত

গত বুধবার (৩ জানুয়ারি) ইউক্রেনের গণমাধ্যমে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন লুতশেঙ্কো। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনেস্কি সরকারের উচিত সেনাবাহিনীর এই ক্ষয়ক্ষতি জনসমক্ষে স্বীকার করে দেশের নাগরিকদের যুদ্ধে আসতে উদ্বুদ্ধ করা।


ইউক্রেনের জনগনের জানা উচিত, যুদ্ধে কতজন সেনাসদস্য মারা গেছেন। তারপর যুদ্ধের জন্য নতুন করে সেনা মোতায়েন করা হবে কি না সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া সহজ হবে।’

এ সময় সেনা সদস্য নিয়োগপ্রক্রিয়া দুর্নীতিমুক্ত করতে কয়েকটি পদক্ষেপের কথা বলেন লুতশেঙ্কো। তিনি পরামর্শ দেন, এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনেস্কি, প্রতিরক্ষমন্ত্রী ও দেশের শীর্ষ সেনা কর্মকর্তাদের অনুমোদন নিয়ে নতুন একটি আইন করা। যেখানে পরিস্থিতির বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।

‘তাদের বলা উচিত, কতজন সেনা ইউক্রেন যুদ্ধে মারা গেছে। আমি জানি, এটা ইউক্রেনের মানুষের জন্য খুব কষ্টকর হবে। কিন্তু ‘আমি ছাড়া বাকি সবাই যুদ্ধে যোগ দিক’ লাখ লাখ ইউক্রেনীয়দের এই সুবিধাবাদ থেকে বের হয়ে আসার অন্য কোন পথ নেই।’

লুতশেঙ্কো মনে করেন, যুদ্ধে এত সেনার আত্মত্যাগের কথা শুনলে তরুণরা নতুন করে যুদ্ধে যাওয়ার জন্য সেনাবাহিনীর লাইনে গিয়ে দাঁড়াবে। যেমনটা ২০২২ সালে দাঁড়িয়েছিল। আরেকটি বিষয়ের কথা বলেন লুতশেঙ্কো। সেটা হলো, ফন্টলাইন তথা সম্মুখ সমরে লড়াইয়ের জন্য সদস্য আহবানের প্রচারণা চালাতে হবে।

সাবেক এই আইনজীবীর কথায়, ‘শুধু সেনাবাহিনী যুদ্ধ করবে না। সবাইকে ইউক্রেনের জন্য যুদ্ধ করতে হবে। এটা কথা প্রচার করলে সাধারণ মানুষ সাহসী হয়ে উঠবে।’

যুদ্ধে বিপুল সংখ্যক সেনা মারা যাওয়ার বিষয়টি কার্যত স্বীকার করেছেন প্রেসিডেন্ট জেলেনেস্কিও। গত ডিসেম্বর মাসে তিনি বলেন, বহু সেনা মারা যাওয়ায় তাদের শূন্যস্থান পূরণ করতে সেনাবাহিনী আরও সাড়ে ৪ লাখ থেকে ৫ লাখ সেনা মোতায়েনের কথা বলেছিল।

এরপর সরকার একটি নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে একটি বিল পাশ করেছে যেখানে সর্বনিম্ন বয়স ২৭ থেকে ২৫ বছর করা হয়। প্রতিবন্ধীদের সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়ার ব্যাপারে যে বিধিনিষেধ ছিল সেগুলোও শিথিল করা হয়।

গত বছরের ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। এরপর গত বছরের জুনে পাল্টা হামলা শুরু করে ইউক্রেনীয় বাহিনী।

তবে ইউক্রেনের এই পাল্টা আক্রমণে তেমন কোন অঞ্চল পুনুরদ্ধার করতে পারেনি কিয়েভ। মস্কো ইউক্রেনের এত সেনা সদস্য মারা যাওয়ার ঘটনাকে ‘বেদনাদায়ক’ বলে উল্লেখ করেছে। সূত্র: আরটি

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন