দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়ায় (কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের) খনিতে কয়লা উত্তোলন সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। তবে ইয়ার্ডে কয়লা খনিতে বর্তমানে দুই লাখ মেট্রিক টনের অধিক কয়লা মজুদ রয়েছে। নতুন ফেইসে যন্ত্রপাতি স্থানান্তর শেষে আগামী ফেব্রুয়ারিতে আবারও কয়লা উত্তোলন শুরু হবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা
কয়লা খনির ১৪১২নং ফেইসে কয়লার মজুত শেষ হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী নুতন ফেইসে খনন কাজ শুরু করতে সাময়িক কয়লা উত্তোলন শুক্রবার (৩০ ডিসেম্বর) থেকে বন্ধ রাখা হয়।খনির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) রাশেদ কামাল এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, চলমান কয়লা খনি ১৪১২নং ফেইস এ কয়লা উত্তোলনে মজুত শেষ হয়েছে । ওই ফেইস থেকে কয়লা উত্তোলন শেষ হওয়ায় ফেইসের কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে। ফলে নতুন ধাপে যন্ত্রপাতি স্থানান্তর শেষে ফেব্রুয়ারির মধ্যে আবারও নতুন ফেইস ১২০৯নং চালু করার জন্য ফেইসের খননের কাজ শুরু করা হয়েছে।
সূত্রটি জানায়, বড় পুকুরিয়া কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চাহিদা অনুযায়ী তাদের ৩টি ইউনিটের প্রতিদিন দুই হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার মেট্রিক টন কয়লা চাহিদা রয়েছে। কয়লা খনিতে বর্তমানে দুই লাখ মেট্রিক টনের অধিক কয়লা মজুদ রয়েছে। কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চাহিদা অনুযায়ী কয়লা সরবরাহ করার মতো মজুদ রয়েছে।
কয়লা খনির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার বলেন, চলমান প্রক্রিয়ায় ভূগর্ভের ১৪১২নং ফেইজে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী দুই লাখ ৭১ হাজার মেট্রিক টন কয়লা উত্তোলন শেষে শুক্রবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকেলে কয়লা উত্তোলন সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। খনি অভ্যন্তরে কয়লা কাটার কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণ শেষে নতুন আরেকটি ১২০৯ নম্বর ফেইজে স্থানান্তর করে স্বল্প সময়ের মধ্যে আবারও কয়লা উত্তোলনের আশা করা হচ্ছে। কয়লা নির্ভর পার্শ্ববর্তী বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরবরাহের জন্য ইয়ার্ডে প্রায় ২ লাখ মেট্রিক টন কয়লা মজুদ রয়েছে।
তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ম্যানেজার (সংরক্ষণ) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, কেন্দ্রে ৫২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন ৩টি ইউনিটের মধ্যে একটিতে দৈনিক ১৭০ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ উৎপাদনে দুই মাস পর্যন্ত সচল রাখার মতো কয়লা মজুদ রয়েছে তাদের ইয়ার্ডে। এ ছাড়া মজুদ কয়লা দিয়ে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে বর্তমানে কোনো সমস্যার সৃষ্টি হবে না।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন